জাতীয়প্রধান খবর

কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২২ দিনের মাথায় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কর্মসূচির আওতায় শুরুতে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবে।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকজন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এসব এলাকার প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করতে জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নানা সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা ও আবাসনের তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি এসব তথ্য যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনের বিষয় যাচাই করে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য বেছে নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে হওয়ায় এতে স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার একটি করে আধুনিক কার্ড পাচ্ছে। স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তির এই কার্ড নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেলে সেই সুবিধা বাতিল হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা অন্যান্য ভাতা পেতে পারবেন। প্রথমে সুবিধাভোগীরা মাসিক আড়াই হাজার টাকা নগদ পাবেন। পরে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য দেওয়ার বিষয়ও ভাবছে সরকার।

ভাতার টাকা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর কোনো হস্তক্ষেপ বা টাকা পেতে বিলম্ব হবে না। পাইলট পর্যায়ে আগামী জুনের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ খরচ হবে অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতের কাজে। এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।

Related Articles

Back to top button