বান্দরবানপ্রধান খবরবান্দরবান সদর

আমরা আশাবাদী তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে : মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, এটা আমার বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা অংশ ঐতিহ্যের একটা অংশ। আমি পার্বত্যবাসীকেএকটি বার্তা দিতে চাই আগামী দিনগুলো কিন্তু সুন্দর হবে।

বুধবার(১৫ এপ্রিল) দুপুরে বান্দরবানের বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের চেমীডলুপাড়া সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সাংসদ সাচিং প্রু জেরী, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহমান প্রমুখ।

তিনি আরো বলেন, এখানকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার হবে, এলাকার উন্নয়ন হবে, সামাজিক কাঠামো উন্নয়ন হবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। আমরা সবাই আশাবাদী তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। পার্বত্য জেলার কোন উপজেলায়আমি বৈষম্য রাখব না।

এরআগে মন্ত্রী বেলুন উড়িয়ে মাহা সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের উদ্বো্ধন করেন। পরে তরুণ তরুণীদের গাঁয়ে মঙ্গল জল ছিঁটান।

এদিকে বিকেলে বান্দরবান জেলা সদরে স্থানীয় রাজার মাঠে উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মাহা সাংগ্রাইংপোয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

বিকেলে স্থানীয় রাজার মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, হাজারো দর্শক এসেছেন স্থানীয় রাজার মাঠে। পাহাড়িদের পাশাপাশি বাঙালিদের উপস্থিতিও দেখা যায় বেশ। উৎসবের গান আর নৃত্যের পাশাপাশি মাঠের এক পাশে চলছে পানি খেলা। যুবক যুবতীরা দলে বিভক্ত হয়ে নৌকায় রাখা পানি এক অপরকে ছিঁটাচ্ছেন। এছাড়াও মাঝে মাঝে পানির নল দিয়ে দূরের দর্শকদেরও উপর থেকে ভিজিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে দলবদ্ধ হয়ে গোলাকারে এক অপরের কাঁধ ধরে গানের সাথে সাথে নাচচ্ছেন তরুণ তরুণীরা।

সাংগ্রাইং উৎসবে আসা মিথে নু বলেন, অনেক দূর থেকে এসেছি। একে অপরকে পানি ছিঁটাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে। এ দিনটির জন্য বসে ছিলাম।

বান্দরবান সরকারি কলেজে পড়া মিথে নু বলেন, স্থানীয় রাজার মাঠ লোকে পরিপূর্ণ। সব বয়সের মানুষ এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। একে অপরকে পানি ছিঁটাচ্ছে। এক পাশে গান আরেক দিকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তরুণ তরুণীরা নাচছে।

এ দৃশ্য ধারণ করতে ঢাকার গাজীপুর থেকে ড্রোন নিয়ে এসেছেন সাইফুল আলম। তিনি বলেন, উৎসবটা অনেক সুন্দর। এ উৎসবের নাম শুনেছি অনেক আগে। এত বছর আসবো আসবো বলে আসা হয়নি। এবার চলে আসলাম। না আসলে এ সৌন্দর্য্য ধারণ করতে পারতাম না।

উল্লেখ্য পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার মারমাদের উৎসব সাংগ্রাইং পোয়ে। পাহাড়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে বর্ষবরণের এই উৎসব পালন করে থাকে। ত্রিপুরাদের বৈসুর (বৈ), মারমাদের সাংগ্রায়ের (সা) চাকমাদের বিঝুর (বি) থেকে বৈসাবি হলেও বান্দরবানের মারমারা বর্ষবরণের এই উৎসবকে সাংগ্রাইং বলে থাকে।

Related Articles

Back to top button