নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাফাখুমে ভ্রমণ: এক পর্যটক নিখোঁজ
বান্দরবানে থানচি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র নাফাখুম জলপ্রপাতে ‘গোসল করতে নেমে’ এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
নিখোঁজ ইকবাল হোসেন (২৪) ঢাকা জেলার ডেমরা থানার সারুলিয়া ইউনিয়নের রসুলনগর গ্রামের বাসিন্দা মফিজুর ইসলামের ছেলে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান থানচি থানা ওসি নাছির উদ্দিন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ১৭ সদস্যের একটি পর্যটক দল আলীকদম থেকে তিন্দুমুখের দুর্গম পাহাড়ি সড়ক অতিক্রম করে বিকেলে নাফাখুম এলাকায় পৌঁছায়। দলটি কোনো স্থানীয় গাইড ছাড়াই ভ্রমণে যায়। নাফাখুম জলপ্রপাতে গোসল শেষে উপরে উঠার সময় দলের সদস্যরা লক্ষ্য করেন— মো. ইকবাল হোসেন তাদের সঙ্গে নেই। দীর্ঘসময় ধরে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া না গেলে তারা নিখোঁজ হিসেবে নিশ্চিত হন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সকালে আলীকদম ও তিন্দু হয়ে ইকবালসহ ১৭ জন নাফাখুমে গিয়েছিলেন। সারা দিন থাকার পর বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁরা সবাই ঝরনায় গোসলে নামেন। একপর্যায়ে ইকবাল ঝরনার পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে।
ওসি নাছির উদ্দিন বলেন, শনিবার দুপুরের দিকে তাদের দলের কয়েকজন সদস্য থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে আসে। তাদের ভাষ্য, শুক্রবার থানচির ২১ কিলো এলাকা দিয়ে গাইড ছাড়া এবং নিবন্ধন না করে ১৭ জনের একটা দল নাফাখুমে চলে যায়। সেখানে গোসল করতে নেমে একজন নিখোঁজ হয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, ঘটনার জানার পর সেখানে বিজিবি একটা দল গেছে। ফায়ার সার্ভিসকেও জানানো হয়েছে। এখানকার ফায়ার সার্ভিসের কোনো ডুবুরি নাই। চট্টগ্রামে থেকে নিয়ে আসতে হয়। সেখানে খবর দেওয়া হয়েছে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল্লাহ আল—ফয়সাল বলেন, ‘পর্যটকেরা প্রশাসনকে অবহিত করে সেখানে যাননি। এমনকি সঙ্গে স্থানীয় কোনো ট্যুরিস্ট গাইডও নিয়ে যাননি। ঢাকা থেকে আলীকদম ও তিন্দু হয়ে সরাসরি নাফাখুমে গিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, প্রশাসন কেবল তিন্দু বড় পাথর পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত করছে। রেমাক্রি ও নাফাখুমে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকা জায়গায় তাঁরা কীভাবে গেলেন, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
২০২২ সালের ২০ অক্টোবর রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। ওই বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এ তিন উপজেলায় কুকি—চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামের একটি সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা বাড়তে থাকে। কেএনএফের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার যোগাযোগের অভিযোগও ওঠে। ২০২২ সালের ৯ অক্টোবর থেকে যৌথ বাহিনী কেএনএফ ও শারক্বীয়ার জঙ্গিদের দমনে অভিযান শুরু করলে নিরাপত্তার কারণে ২০ অক্টোবর থেকে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।
পরে ধাপে ধাপে কয়েকটি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রোয়াংছড়ির দেবতাখুমও খুলে দেওয়া হয় পর্যটকদের জন্য। গত ৬ জুন থেকে রুমা উপজেলার বগা লেক, থানচি উপজেলার তুমাতঙ্গি ও তিন্দু পর্যন্ত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। পরে রুমার কেওক্রাডংও খুলে দেওয়া হয়েছে।






