খাগড়াছড়িতে জনগণের মুখোমুখি ১০ সংসদ সদস্য প্রার্থী
রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, নারী ক্ষমতায়ন ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন খাগড়াছড়ি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি টাউন প্রাঙ্গণে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রার্থীরা এসব প্রতিশ্রুতি দেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সনাক ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা খাগড়াছড়ির বর্তমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেন। বক্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী মো. ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হবে খাগড়াছড়িতে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, পর্যটন ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়িয়ে প্রতিটি পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করাই তার অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়ি নানা প্রতিশ্রুতির কথা শুনলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকা থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি একটি নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং খাগড়াছড়ির মানুষের সুখ-দুঃখ খুব কাছ থেকে দেখেছেন। নিজের জন্মভূমির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এলাকার বাস্তবতা ও সমস্যাগুলো তিনি গভীরভাবে বোঝেন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ খাগড়াছড়ি গড়ে তুলতে চান তিনি। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেন তিনি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা বলেন, খাগড়াছড়ির উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা অগ্রাহ্য করা যায় না। নির্বাচিত হলে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপদ চলাচল, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই তার উন্নয়ন দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন।
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, একজন স্থানীয় সন্তান হিসেবে খাগড়াছড়ির উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করতে চান তিনি। তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণরা মেধাবী হলেও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। নির্বাচিত হলে বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এয়াকুব আলী চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা),স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান (ফুটবল),স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা (ঘোড়া), গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজা (ট্রাক), বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমা (রকেট),জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউসার আজিজী (হাতপাখা),ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ-এর মো. নূর ইসলাম (আপেল),বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা (হারিকেন প্রতীক)।এদিন অনুষ্ঠানে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা অনুপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। খাগড়াছড়ি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব প্রার্থীই পাহাড়ি অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






